উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার ও মাদকবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ওপর নিজ দল বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের দিনেই এই ঘটনা ঘটায় প্রধানমন্ত্রীর দিনভর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘটনার দায় পুরো মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযানের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশরাক অবশ্য নিজের কর্মকাণ্ডকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে দাবি করেছেন যে, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি অল্প সময়ের জন্য তাঁর বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। শনিবার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় এই ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান এবং একজন দেহরক্ষী এক তরুণকে লাথি দেন। মন্ত্রীর এমন আচরণে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার এক শীর্ষ নেতা জানান, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজ নয়, বরং তাঁদের কাজ প্রশাসনকে সহযোগিতা করা।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির দিনে এই ঘটনায় মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ থাকায়, ইশরাকের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।