উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে স্পেন ও ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভ এবার ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মিলানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। গত শনিবার মিলানের কেন্দ্রস্থলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল শুরু হলেও পরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও পাকা ব্লক ছুড়তে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং এতে অন্তত দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত ও প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারী আটক হন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, বিক্ষোভ করা মানুষের অধিকার হলেও শহরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া কোনো অধিকার নয়। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা জানান, বিক্ষোভের কারণ বোধগম্য হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সহিংসতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন জোরদার হয়েছে এবং শনিবার সেখানে বিক্ষোভকারীরা তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান শুরু করেন। পর্তুগালের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন এবং লিসবনের রোসিও স্কয়ারে রাতভর অবস্থানের ঘোষণা দেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, করদাতা ও দেশের চালিকাশক্তি এই সামাজিক শ্রেণি আক্রমণের মুখে পড়েছে এবং তাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেন, সরকারি নীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ সরকার বুঝতে পারছে, তবে অন্য দেশ থেকে অস্থিতিশীলতা ও বিক্ষোভের পরিবেশ পর্তুগালে নিয়ে আসার চেষ্টা করা উচিত নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসন ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। এদিকে চলতি সপ্তাহে আলবেনিয়াতেও সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ টিউশন ফির প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার আলবেনিয়ায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর, পেট্রলবোমা ও আতশবাজি ছোড়েন এবং পুলিশ প্রথমবারের মতো রাবার বুলেট ব্যবহার করে। স্পেনে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনার পর। এই আন্দোলনের পর সরকারের প্রস্তাবিত জরুরি পদক্ষেপগুলো কংগ্রেসে বাতিল হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নভেম্বরের শেষ দিকে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। ফ্রান্সেও বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শনিবার ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতার মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিসে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রোববারও বিক্ষোভ হয় এবং প্লাস দ্য লা রিপাবলিকের কাছের একটি সড়কে ভয়াবহ আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে সামাজিক বৈষম্য ও জীবনযাত্রার মানের অবনতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভে রূপ নেয়।