উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে ‘বায়োচার ফর সয়েল হেলথ, নিউট্রিয়েন্ট এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ক্রপ প্রোডাকশন’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিএআরসির মৃত্তিকা ইউনিট ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আয়োজিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আব্দুছ ছালাম।
কৃষি বর্জ্য, কাঠ, খড়কুটো ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ পদার্থ সীমিত বা প্রায় অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে বায়োচার তৈরি করা হয়। অধ্যাপক জাহাঙ্গীরের উপস্থাপিত গবেষণা-তথ্যে বায়োচার ব্যবহারে মাটির আপাত ঘনত্ব গড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমা, রন্ধ্রতা ৪১ শতাংশ এবং উদ্ভিদের ব্যবহারযোগ্য পানি ধারণক্ষমতা ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া গবেষণায় বায়োচার ব্যবহারে ভুট্টার ফলন ২৯ শতাংশ, আউশ ধানের ২৩ শতাংশ এবং বোরো ধানের ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কাদির মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভুট্টার মোচা তোলার পর অবশিষ্ট অংশ ও শুকনো গাছ বায়োচার উৎপাদনে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সালাম বাজারে প্রাপ্ত উপাদান জমিতে ব্যবহারের আগে ভারী ধাতুর দূষণসহ সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পিএইচ, আর্দ্রতা ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ওপর জোর দেন। অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কাঁচা বায়োচার সরাসরি জমিতে প্রয়োগ না করে কম্পোস্ট, গোবর বা উপযুক্ত জৈব সারের সাথে মিশিয়ে প্রস্তুত করে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, বায়োচার শুধু মাটির গুণাগুণ উন্নয়নের উপাদান নয়, এটি পুষ্টি উপাদানের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্বন সঞ্চয়ের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হলে উৎপাদনব্যয় নিরূপণ, মান নিয়ন্ত্রণ, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।