উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে একঘরে করে রাখার দীর্ঘদিনের নীতি থেকে ওয়াশিংটন সরে আসছে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে দেশটির কয়েকজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে।
গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল ভ্যান্স রাজধানী নেপিডোতে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ২০২১ সালে অং সান সু চি সরকারকে হটিয়ে জান্তা ক্ষমতা দখলের পর এটিই কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার প্রথম সাক্ষাৎ। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য স্থানীয় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম কাস্তিলোকে মুক্ত করা হলেও সেখানে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় আলোচিত হয়।
দুই দেশের সম্পর্কের পরিবর্তনের সূচনা মূলত গত বছরের শুল্কযুদ্ধের সময় থেকে। মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের চিঠি পাঠানোর সময় ট্রাম্প হ্লাইংকে অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো ‘মহামান্য’ সম্বোধন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কোণঠাসা জান্তাপ্রধান এতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ট্রাম্পের চিঠির আদলে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
কূটনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে গত জুলাইয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকার ওয়াশিংটনের লবিং প্রতিষ্ঠান ডিসিআইকে ৩০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ লবিস্ট রজার স্টোনকে মাসে ৫০ হাজার ডলারে নিয়োগ করে। এছাড়া মুক্ত হওয়া মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলোও ওয়াশিংটনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দলের কাছে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং খনিজ সম্পদে চীনের নিয়ন্ত্রণ কমানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
গত এপ্রিলে চীন যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের বিশাল খনিজ মজুতের দিকে নজর দিতে শুরু করে। তবে মিয়ানমারের এসব খনিজ মূলত জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে চীনা কোম্পানিগুলোর পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। ফলে চলমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন দীর্ঘ মেয়াদে জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে কতটা সুবিধা আদায় করতে পারবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।