উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দিনদুপুরে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে ভুয়া SRB পরিচয়ে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনার চার দিনের মাথায় কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত ব্যবসায়ীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চাকরিচ্যুত সাবেক এক সেনাসদস্যের নেতৃত্বাধীন সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, তাদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো রঙের SRB লেখা কটি, দুটি ভুয়া SRB পরিচয়পত্র এবং একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় ভিকটিম মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানের দোকানে চার-পাঁচজন ব্যক্তি প্রবেশ করে। তাদের পরনে ছিল কালো পোশাকের ওপর SRB লেখা কালো কটি, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক এবং তারা নিজেদের SRB সদস্য পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর ওই রাতেই ভিকটিমের স্ত্রী ও দোকান ম্যানেজারের মোবাইলে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মো. হোছাইনের অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় একটি অপহরণ মামলা রুজু করা হয়।
তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২১ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত সুমন মুন্সি এক সময় উখিয়া এলাকায় SRB-তে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত হয়ে জেল খেটে ভুয়া SRB পরিচয়ে এই সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্র গড়ে তোলে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।