উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার ও লোকশিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী লোকগান ও পালাগানের চর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রবীণ শিল্পীর কাছে সংরক্ষিত গান ও কাহিনির লিখিত রূপ কিংবা প্রামাণ্য রেকর্ডিং না থাকায় এসব ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোকগান সংগ্রহ, পালার বাণী ও সুরের রেকর্ড সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং শিল্পীদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও পরিবেশনার আয়োজন বাড়িয়ে এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করতে হবে।
বিশ শতকের গোড়ার দিকে স্থানীয় সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত বিভিন্ন পালা সংগ্রহ করেন এবং সাহিত্যগবেষক দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মহুয়া ও মলুয়ার প্রেম, বিরহ, আত্মত্যাগ এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকর্ম এবং দেওয়ানা মদিনা, কমলা, কাজলরেখার মতো পালাগুলো লোকসাহিত্যের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বয়াতি ও গায়েনদের পরিবেশনানির্ভর এসব পালাগান গ্রামীণ মেলা ও উৎসবে মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকসংগীতের আরেকটি ধারা হলো বাউলগান, যা আত্মঅনুসন্ধান ও সাধনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং এর সঙ্গে উকিল মুন্সি, চান খাঁ, জালাল খাঁ ও রশিদ উদ্দিনের নাম জড়িত। অন্যদিকে কবিগানে তাৎক্ষণিক কাব্যরচনা, যুক্তিতর্ক ও সুরের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক অসংগতি ও ধর্মীয় আখ্যান তুলে ধরা হয়। এসব গানে আঞ্চলিক ভাষা, নদী, হাওর, বর্ষা ও গ্রামীণ প্রকৃতির অনন্য ব্যবহার লোকসাহিত্যকে স্বতন্ত্র আবেদন দিয়েছে। যথাযথ গবেষণা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ময়মনসিংহের এই লোকঐতিহ্য রক্ষা করা গেলে তা সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।