উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গোপালগঞ্জ পৌরপার্কের মধুমতী শাখা নদীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের অনুমতি পেয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর ফলে দীর্ঘ দিন পর গোপালগঞ্জে বিজয়া দশমীর আবহ ফিরে পেয়েছে তার পুরোনো জাঁকজমক ও সর্বজনীন উৎসবের রূপ। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পৌরপার্কের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী হরিদাসপুর মধুমতী নদীকে সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। যাতায়াতের দূরত্ব ও নানা পারিপার্শ্বিক জটিলতার কারণে ভক্তরা সেখানে যেতেন না, ফলে বিজয়া দশমীর আনন্দের আমেজে দীর্ঘদিন ধরে ভাটা পড়েছিল।
চলতি বছর এই জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সভাপতি রমেন্দ্রনাথ সরকার, পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্বচ্ছতা সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃবৃন্দ পূর্বের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী পৌরপার্কের মধুমতী শাখা নদীতেই প্রতিমা বিসর্জনের যুক্তি ও আবেদন উপস্থাপন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে উক্ত স্থানে বিসর্জনের সরকারি অনুমোদন প্রদান করা হয় এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় বিপুল উৎসাহ ও আনন্দমুখর পরিবেশে মা দুর্গার বিসর্জন পর্ব সুসম্পন্ন হয়। বিসর্জন ঘাটে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর উপস্থিত থেকে ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন এবং বিজয়া দশমীর প্রীতি জানান। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঐতিহ্যবাহী এ স্থানে আবার প্রতিমা বিসর্জনের সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।