উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বোমায় বিধ্বস্ত একটি স্কুলের বয়লারের নিচে আটকে থাকা কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকো বেঁচে থাকতে নিজের অবশিষ্ট পা-টি কেটে ফেলতে বাধ্য হন। গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় বাঁ পা হারানোর পর তাঁর ডান পা ভেঙে বেঁকে গিয়েছিল এবং তিনি হামাগুড়িও দিতে পারmছিলেন না। প্রায় তিন মাস পর নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে পা-টি কেটে এবং ব্যান্ডেজ বেঁধে তিনি রক্তপাত বন্ধ করেন ও বেঁচে যান।
গত ৪ অক্টোবর ৪৯ বছর বয়সী এই সেনাকে এক বিশাল ছয় পাখার ড্রোনের সাহায্যে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়। হার্নেস পরা ঝুলন্ত ভ্লাসেনকোকে ড্রোনটি শূন্যে তুলে নিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের মতে, আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো সেনাকে উদ্ধারের এটিই প্রথম জানা ঘটনা।
খারকিভের হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভ্লাসেনকো রয়টার্সকে জানান যে তিনি নিজেকে কবর দিয়েই ফেলেছিলেন এবং বাঁচার আর কোনো আশা ছিল না। ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের এই সেনাসদস্য গত বছরের মে মাসে সামনের সারিতে মোতায়েন হয়েছিলেন। বাস্কি নামের এক সহযোদ্ধার সঙ্গে তিনি একটি ছোট মাটির গর্তে গাদাগাদি করে থাকতেন।
গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে একটি রুশ নজরদারি ড্রোন ও বোমায় বাস্কি নিহত হন এবং ভ্লাসেনকোর বাঁ পা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে বয়লারের নিচের গর্তে পচে যাওয়া ও হাড় বেরিয়ে আসা পা তিনি নিজেই কেটে ফেলেন। পেছনের সারির কমান্ডাররা গুরজুফ ডিফেন্স কোম্পানির তৈরি নতুন এক ভারী ড্রোনের মাধ্যমে তাঁকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করেন।
গত ৪ অক্টোবর ছয় পাখার সেই বিশাল ড্রোনটি সেখানে পৌঁছে তাঁকে তুলে নেয় এবং রুশ ড্রোনগুলোর মনোযোগ ঘোরাতে অন্যান্য ড্রোন ও গোলন্দাজ বাহিনী হামলা চালায়। চরম উত্তেজনার ১৫ মিনিট পর উদ্ধারকারী ড্রোনটি তাঁকে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। সাঁতার না জানার কারণে ভ্লাসেনকোর কাছে এই নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার যাত্রাটি ছিল অন্য এক ভয়ের অভিজ্ঞতা।