উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কারওয়ান বাজারে এক সবজি বিক্রেতার কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ অক্টোবর রিস্টার্ট ৪২০ শর্টস পেজে প্রকাশিত এই ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে অন্যজন পরপর ১১টি থাপ্পড় দিচ্ছেন। ১২ লাখের বেশিবার দেখা এই ভিডিওর নিচে নেটিজেনরা প্রতিবাদকারী যুবকের প্রশংসায় নানা মন্তব্য করেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরো ঘটনাটিই সম্পূর্ণ সাজানো এবং তিন জনই অভিনয় করেছেন। ১৭ অক্টোবর দোকানের মালিক শাহাবুদ্দিন জানান, সচেতনতামূলক ভিডিও বানানোর কথা বলে তাঁরা সেখানে এই অভিনয় করেন।
রিস্টার্ট ৪২০ শর্টস ছাড়াও ফাইব ব্রাদার ২.০ ও চিটাগং জুয়েল ০০১ পেজ থেকেও এমন ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব ভিডিওতে কখনো রিকশাওয়ালা, কখনো দোকানদার আবার কখনো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে মারধরের দৃশ্য দেখানো হয়। ভিডিওগুলো বাস্তবের আদলে প্রচার করায় সাধারণ মানুষ ও অনেক সময় গণমাধ্যমও বিভ্রান্ত হয়। ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী একে একধরনের প্রতারণা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মনিটাইজেশনের মাধ্যমে টাকা আয় করতেই মূলত এমন কনটেক্সট ছাড়া অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এই দলের টিম লিডার রিপন মৃধা জানান, সমাজের নানা অসংগতি দূর করার উদ্দেশ্যেই তাঁরা এসব বাস্তব ঘটনার আদলে ভিডিও বানান। বসুন্ধরায় বসবাসকারী এই দলে রিপন ছাড়াও রয়েছেন জামাল হোসেন বনী, মো. সবুজ, মো. সম্রাট, শাওন ও আজিজুল। আজ শনিবার পর্যন্ত ফেসবুকে এই পেজের অনুসারী ৭ লাখ ৮২ হাজার এবং ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার ৬ লাখ ২০ হাজার। প্রায় ৩০০ ভিডিওর প্রতিটিই থাপ্পড় দিয়ে শুরু হয় এবং একটি ভিডিওর ভিউ ছাড়িয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ। শুরুতে ফানি ভিডিও বানালেও সাড়া না পেয়ে তাঁরা মারামারি ও হট্টগোলের কনটেন্ট শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকাশ্যে এভাবে থাপ্পড় মারার দৃশ্য সহিংসতাকে উসকে দেয় এবং এটি আইনত অপরাধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, এটি ম্যাজিক বুলেট থিওরির মতো কাজ করে এবং সহিংসতা মানুষের মনে অবচেতন বা সচেতনভাবে প্রভাব ফেলে। ভিউ ব্যবসার জন্য সাজানো ভিডিওকে আসল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া ডিজিটাল প্রতারণার শামিল। তাই এ ধরনের কনটেন্ট রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের মনিটাইজেশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।