উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সন্ধ্যার অন্ধকার ভেদ করে ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার আহসান মঞ্জিলে জ্বলে ওঠে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি। নবাব আহসানউল্লাহর আমন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে আসা রাজস্ব বোর্ডের সচিব সি ডব্লিউ বোল্টন সুইচ টিপে আলোর সূচনা করেন। অসুস্থতার কারণে বাংলার ছোট লাট স্যার জন উডবার্নের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।
নগরবাসীর দুর্দশা লাঘব এবং আধুনিকায়নের জন্য নবাব আহসানউল্লাহ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে এই বিজলি বাতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। পরের দিন ৮ ডিসেম্বর ঢাকা প্রকাশ পত্রিকায় এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঢাকাবাসীর বিস্ময় ও আনন্দের কথা তুলে ধরা হয়। আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে সংরক্ষিত তথ্যেও সেদিনকার এই ঐতিহাসিক ঘটনার নানা স্মৃতিচিহ্ন এখনও সুরক্ষিত রয়েছে।
শুরুতে গ্যাসের বাতি বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে নবাব আহসানউল্লাহ সরাসরি বিদ্যুতের বাতি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই উদ্দেশ্যে গঠিত দ্য ঢাকা ইলেকট্রিক লাইট ট্রাস্টের তহবিলে তিনি সাড়ে চার লাখ টাকা দান করেছিলেন। ঐতিহাসিক এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাত্র ৯ দিন পর ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে ইংল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স অক্টাভিয়াস স্টিল অ্যান্ড কোম্পানির মাধ্যমে হাতিরপুল এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপিত হয়। ১৯১৯ সালে ডেভকোর আত্মপ্রকাশের পর ঢাকায় বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।