উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রানুকুর মনে আছে, ছোটবেলায় পাঁচ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় উইনস্টন আঘাত হানার সময় দ্বীপের বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে পাহাড়ের উঁচু অংশে উঠে গিয়েছিলেন। সেই রাতের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ভয়ংকর ছিল সেই রাত। তিনি আরও বলেন, গ্রামের প্রধান যখনই এ বিষয়ে বলেন, আমরা সবাই উঁচু জায়গায় চলে যাই, কাউকে ফেলে দেওয়া হয় না। পাহাড়ের নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে রানুকু ব্যাখ্যা করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি সত্ত্বেও কেন দ্বীপের মানুষ সেখানে বসবাস করতে চান। রানুকু জানান, আমরা এই দ্বীপকে ভালোবাসি, নির্মল বাতাস ও প্রতিদিন মাছ ধরতে যাওয়ার সুযোগ থাকায় মানুষ এখান থেকে যেতে চায় না।
ফিজির ছোট্ট এই দ্বীপে উচ্চ জোয়ারের সময় পানি প্রতিরক্ষা দেয়াল উপচে ভেতরে প্রবেশের ঘটনা বাড়ছে এবং মাটিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে উর্বরতা কমছে। দ্বীপটিতে ঢেউয়ের শক্তি কমিয়ে দেওয়ার মতো প্রাকৃতিক বাধার অভাব রয়েছে এবং এর ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়ির ভিত্তি ও ছাদ অস্থিতিশীল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দ্বীপটির প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িঘর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করার মতো শক্তিশালী বাড়ি রয়েছে মাত্র তিনটি। দ্বীপের পূর্ব প্রান্তে একসময়ে যেখানে বাড়ি ও হাসপাতাল ছিল, এখন সেখানে কংক্রিটের খুঁটির গোড়ায় পানি এসে লাগছে।
দ্বীপের বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ২০২৫ সালে হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি নামক সংস্থার সঙ্গে মিলে ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা করেন। অক্টোবরে এএফপির সাংবাদিকরা দ্বীপ পরিদর্শনের সময় দেখেন, শ্রমিকেরা দুর্বল দেয়াল ও ঢেউটিনের ছাদ খুলে নৌকায় করে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বন্যার ঝুঁকি কমাতে কিছু বাড়ি উঁচু করা হয়েছে। দ্বীপটিতে যাতায়াত নিরাপদ করতে মজবুত পথ নির্মাণ এবং নৌকা ভেড়ানোর ব্যবস্থা সহজ করার সুপারিশও করা হয়েছে। আভেনাই রানুকু এএফপিকে জানান, বায়ুচাপ যত বেশি থাকে ঢেউ তত উঁচুতে ওঠে এবং গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে এখানকার সূর্যাস্তের দৃশ্যের মূল্য ১০ কোটি ডলার এবং মূল ভূখণ্ড থেকে তাকালে দ্বীপটিকে স্বর্গের মতো মনে হয়। খাড়া ঢাল ও নারকেলগাছে ঢাকা দুটি ছোট পাহাড়ের মাঝে থাকা এই দ্বীপের চারপাশে রয়েছে প্রবালপ্রাচীর ও সমৃদ্ধ মাছের বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু ভেতরের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে ঘরবাড়ি রক্ষায় কংক্রিটের একটি প্রতিরক্ষা দেয়ালই একমাত্র ভরসা। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে দ্বীপটির বহু বাড়িঘর, সবজির ক্ষেত ও কবরস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ে। এত ঝুঁকি ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ বাসিন্দা পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে না গিয়ে দ্বীপটির সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।