উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
এক হাতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র, অন্য হাতে পরীক্ষার কাগজ নিয়ে হাসপাতালের এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ছুটছেন স্বজনকে নিয়ে আসা মানুষটি। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে এবং কিনতে হবে ওষুধ, কিন্তু পকেটের টাকা সীমিত থাকায় অনেক পরিবার বিপাকে পড়ছে। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর সুযোগ না মিললে কিংবা সেবা পেতে দেরি হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যাঁদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন ছিল, তাঁদের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাননি। একই গবেষণায় দেখা যায়, দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়েছে। বিআইডিএসের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০২৪ সালে পরিবারগুলো গড়ে মাসে ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করেছে।
স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য সরকারি হাসপাতাল অনেক মানুষের প্রধান ভরসা হলেও শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ ও জনবলসংকটের মতো সমস্যা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৫৯টি জেলা হাসপাতালে গড় শয্যা-ব্যবহার ছিল ১৭৮ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ১৬৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আলোচনায় স্বাস্থ্যব্যয় কমানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং অসুস্থতার সময়ে কেউ যেন অর্থের অভাবে বঞ্চিত না হন, সেটাই হওয়া উচিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবা যেন কেবল আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়, সে জন্য দরিদ্র পরিবারকে কার্যকর সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান ও প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমানোর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তার নিয়মিত মূল্যায়নও জরুরি।