উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বাংলাদেশের মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস খাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আধুনিক এভিয়েশন লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা গেলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তিনি জানান, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় লজিস্টিকস খাতে এবং এ খাতে মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয়। এই ব্যয় ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে মনে করেন চেম্বার সভাপতি।
চট্টগ্রামে তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা এবং একটি বৃহৎ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে উল্লেখ করে আমিরুল হক বলেন, এসব অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা প্রয়োজন। ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনেও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বস্ত্র খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প ও উচ্চপ্রযুক্তিতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি এবং একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বুধবার ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং আমদানি-রপ্তানিতে বিভিন্ন অশুল্ক বাধার কথা উল্লেখ করে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, খাদ্যপণ্য আমদানিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার মতো কিছু বিধিনিষেধ দূর করা গেলে পণ্য খালাস দ্রুত হবে। এতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।