উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ফিরে দেখা দুই দশক পর প্রধান উপদেষ্টা পদ নিয়ে আবার আলোচনা গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রশ্ন সামনে আসে। গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগের রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়। তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পুনর্বহাল হওয়া বিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরই প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যাবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় তৈরি হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রশ্নটি আবার সামনে আসে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে বৈধ ভোটের প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে পড়ে। কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যক্তিকে ঘিরে লগি-বইঠা দিয়ে পেটাচ্ছেন কয়েকজন। নিথর দেহের ওপর উঠে লাফালাফির দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে গুলি, বোমার বিস্ফোরণ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। রাজধানীর পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকা পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে। রাজনৈতিক সহিংসতার এমন ভয়াবহ দৃশ্য স্তম্ভিত করেছিল দেশকে। দিনটি ছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। কেবল ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সেদিন রাজনৈতিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার আগের দিন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে তখন তীব্র রাজনৈতিক সংকট চলছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন দুই জোটের বিরোধ তখন চরমে। সংলাপে সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছিল রাজপথে শক্তি দেখানোর। সেদিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা লগি-বইঠা নিয়ে রাজপথে নেমেছিল।
রক্তাক্ত সেই ২৮ অক্টোবরের ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এই রক্তাক্ত ঘটনার পর দেশে আসে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তী সময়ে সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন তিনটি চরম বিতর্কিত নির্বাচন হয়। টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত ঐকমত্যও তৈরি হয়েছে। কিন্তু দুই দশক আগে এই সরকারব্যবস্থার প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল; এখনো সেই প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের পদ্ধতি এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে আবারও রাজনৈতিক মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।