উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শুক্রবার ইরানের তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এএফপির খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে।
এর আগে গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরান কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে এই দুই দেশ মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
এদিকে কাতারের প্রতিনিধিদলের এই সফরের এক দিন আগে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ওই চিঠিতে শান্তিচুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তের পরিবর্তে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো এই চিঠিটি গত রোববার জেনারেল মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছায়।
এ সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছেন। গত আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা জোটে স্বাক্ষর করেছিল এই তিন দেশ। এছাড়া মঙ্গলবার মস্কোয় এক বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করায় তেহরানের তেল রপ্তানি ও বাণিজ্য পরিচালনার সক্ষমতা আরও সীমিত হয়েছে। তেহরানের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার। গত আট মাস ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরান সফর করেছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল।