উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক বৃষ্টি ও ঝড়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের ২৮০ হেক্টর জমির কলা ও পেঁপের বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে ফলন্ত কলাগাছ, যাতে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৩০ কোটি টাকা। বুধবার দুপুর ১২টা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের দিকে মধুপুরের শোলাকুড়ি, অরণখোলা, বেরিবাইদ, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামে হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ধারদেনা ও ব্যাংকঋণ নিয়ে করা চাষ কয়েক মিনিটের ঝড়ে শেষ হয়ে গেছে এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা না করলে এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এই ঝড় ও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে মধুপুর-মুক্তাগাছা সীমানা এলাকার কামারিয়া গ্রামের আফেজ মন্ডলের ছেলে মজিবর মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক নূর মুহাম্মদ জানান যে তাঁর দুই বিঘা পেঁপে ও পাঁচ বিঘা লাউয়ের ফসল নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, ৩ থেকে ৪টি ইউনিয়নের ৫০৬ হেক্টর জমির ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে গেছে এবং ২৭২ হেক্টর কলা ও সাড়ে ৫ হেক্টর পেঁপের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববারের মধ্যে তা শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কৃষি বিভাগের লোকজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় তাঁর পক্ষ থেকে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ দলের নেতাকর্মীরাও এলাকার ক্ষতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।