উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সরকার গঠনের পর আট মাস অতিক্রম হলেও দুর্নীতি দমনের ব্যাপারে বর্তমান সরকারের আগ্রহ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশানুরূপ না হওয়ার জন্য প্রধানত দুর্নীতি দায়ী এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে। আইএমএফের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের মাথাপিছু নমিনাল জিডিপি চার হাজার ৮০৬ ডলার এবং ২০২৪ সালে সেখানে মাত্র ২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল দুই হাজার ৭২০ ডলার এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বাংলাদেশের জনগণের ২১ শতাংশের অবস্থান।
শেখ হাসিনার ২০০৯-২৪ শাসনামলে বেধড়ক দুর্নীতি, পুঁজি লুণ্ঠন ও পুঁজি পাচারের সংস্কৃতি চালু হয়েছিল এবং তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে একেবারেই অকার্যকর করে ফেলেছিলেন। কিন্তু শুধু ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেতিবাচক কার্যক্রমের দোহাই দিলে কি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে? প্রশ্ন এখন করাই যায়, শুধু শেখ হাসিনার দুর্নীতির ভয়াবহতা বর্ণনা করা ছাড়া বিএনপি গত আট মাসে সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে কী কী কংক্রিট পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে? সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে এখনও দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চলেছেন।
ভূমির্তসংক্রান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রকোপ আগের মতোই রয়ে গেছে এবং কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে কোনো আঁচড়ই পড়েনি। সড়ক পরিবহনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর অফিসে এখনও প্রতি পদক্ষেপে ঘুষের কারবার এবং বিচার বিভাগের ঘুষ-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আগের মতো বহাল রয়ে গেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দুর্নীতির ক্ষেত্রগুলো এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের দখলে চলে গেছে। দলীয় পদক্ষেপের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বা আইনি শক্ত ব্যবস্থা গৃহীত না হলে কোনো দুর্নীতিবাজই যে ভয় পায় না, তা এ দেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।