উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতার বিস্তার ঘটিলেও প্রতিকারের ব্যবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। শুক্রবার প্রকাশিত সমকালের ‘অনলাইনে সহিংসতার শিকার ৪৫.৫ শতাংশ নারী’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক নারী সহিংসতার শিকার হইলেও অধিকাংশই প্রতিকার পান নাই। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটালি রাইটের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিকার না পাইয়া অনেকে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কমাইয়া দিয়াছেন এবং পড়াশোনা, চাকরি ও বাসস্থান বদলাইতে বাধ্য হইয়াছেন।
গবেষণায় উঠে আসিয়াছে যে আর্থিক প্রতারণা, যৌন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করিয়া ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরির মাধ্যমে নারীদের হয়রানি করা হইতেছে। তথ্যের প্রয়োজনে সবাই যখন অনলাইনের উপর নির্ভরশীল, তখন এই মাধ্যমটিতে নারীর নাজুকতা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সহিংসতার শিকার নারীর ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপরাধীকে ব্লক করিয়াছেন এবং ২১ শতাংশ ভয়ের কারণে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কমাইয়া দিয়াছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭১ শতাংশের অধিক মনে করেন যে অনলাইন সহিংসতার শিকার হইলে সমাজে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ লইতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে নারী উল্টা আরও ভয়ানক নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হন, যা প্রশাসন ও সমাজের দুর্বলতারই প্রমাণ। বর্তমানের এই হয়রানির বড় অংশ ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে সংঘটিত হইতেছে এবং প্রতিরোধে ৯৯৯ বা পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের সহায়তা নেওয়া যাইতে পারে।
অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু আইন যথেষ্ট নয়, বরং পারিবারিক সচেতনতা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীরা যাতে সহজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হইতে পারেন, সেই জন্য অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থাসমূহ নারীবান্ধব করিতে হইবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন করিতে হইবে। তরুণীদের প্রতি যেকোনো হয়রানি নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থসামাজিক উন্নতির পথে বড় অন্তরায়, তাই সামষ্টিক দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।