উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ভোলার গ্যাস ব্যবহার না করে চড়া দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তাঁর মতে, ভোলায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গ্যাস থাকা সত্ত্বেও তা ফেলে রাখা হয়েছে এবং এলএনজি টার্মিনালের জন্য বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হচ্ছে। বিগত ছয় মাসে ভোলার গ্যাসের ব্যবহার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে উদ্যোগ নিলে সংকট মোকাবিলায় বড় অগ্রগতি হতে পারত।
বর্তমান সরকারের জ্বালানি নীতি ও পিএসসি চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগের পিএসসির চেয়ে বিদেশি কোম্পানিকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেখ হাসিনা আমলের শেষ দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সক্রিয়তায় মার্কিন কোম্পানির সুবিধা অনুযায়ী পিএসসি সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই পিটার হাসকেই মার্কিন তেল কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির লবিস্ট হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং এই সরকার তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে।
সমকালের সহকারী সম্পাদক সাইফুর রহমান তপনকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক করপোরেট সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশি পার্টনাররা অবস্থান করছেন। বছরের পর বছর ধরে এসব করপোরেট সংস্থার লবিস্টরাই জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ধারক ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা চাইলেও স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, যদিও আগের প্রায় সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীই ওই লবিস্টদের হয়ে কাজ করেছেন।
সমুদ্র তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে মূল মালিকানায় রেখে নির্দিষ্ট কাজে চুক্তিভিত্তিক বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা না করে জাতীয় স্বার্থবিরোধী শর্তে চুক্তি করায় সুফল পাওয়া যায়নি। অথচ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, নরওয়ে, চীন ও ভারতের মতো দেশ মাত্র ৮-১০ বছরে দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে বলে তিনি মনে করেন।