উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর সামরিক অবরোধ কার্যকর করতে শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখার এই অভিযানে ১২টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এই বিশাল নৌ-বহরকে সহায়তা দিচ্ছে ১০ হাজারের বেশি অভিজ্ঞ কর্মী এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সেন্টকমের কড়াকড়ির মুখে ইতিমধ্যেই ইরান-সংশ্লিষ্ট ২৩টি জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোকে হরমুজ প্রণালীর দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা সমুদ্রপথে নিয়মিত তল্লাশি ও সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের মতো কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই অবরোধের পরিধি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এটি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবাহিনী ও বিশেষ কমান্ডো দল পাঠিয়ে জাহাজ আটক বা তল্লাশি করা হয়েছিল। সেই একই কৌশলে এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে থমকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করবে, ততক্ষণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে বিশেষ ফি প্রদান এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে জাহাজ চলাচলের যে বিশেষ করিডোর বা পথ খোলা রাখা হয়েছিল, সেটিও এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী শাখা এক বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি চরম লঙ্ঘন।