উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর পর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “রাশিয়ার তেলের জন্য দেওয়া প্রতিটি ডলারই যুদ্ধের অর্থ। এটি ইউক্রেনে ধ্বংসাত্মক হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।” কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।
জেলেনস্কি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের ঘোষণা দেয়। এর ফলে সমুদ্রে থাকা রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাড়তে থাকা জ্বালানি মূল্যের চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। যদিও এর দুই দিন আগে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটন এটি নবায়ন করবে না।
জেলেনস্কি আরও জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রুশ তেল বহনকারী ১১০টিরও বেশি ট্যাঙ্কার সমুদ্রে রয়েছে। এগুলোতে ১ কোটি ২০ লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা “নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই বিক্রি করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “এটি ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ, যা সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নতুন হামলায় রূপান্তরিত হচ্ছে।” ইউক্রেনীয় এই নেতা জানান, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া তাদের শহর ও বসতিতে ২ হাজার ৩৬০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন, ১ হাজার ৩২০টির বেশি নির্দেশিত বিমান বোমা এবং প্রায় ৬০টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন প্রধান জানান, গত রোববার উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে এক রাতের হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত ও অপর চারজন আহত হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, “রুশ ট্যাঙ্কারগুলোকে থামানো জরুরি। তাদের বন্দরে তেল পৌঁছাতে দেওয়া যাবে না। হামলাকারীর তেল রপ্তানি কমাতে হবে। ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।”