উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক ও সেতু পুনরায় চালু করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। বর্তমানে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে।
সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, নাবাতিয়াহ শহরকে খারদালি এলাকার সঙ্গে সংযোগকারী সড়কটি ‘পুনরায় চালু’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বুর্জ রাহালে-টায়ার সেতুটি ‘আংশিকভাবে চালু’ করা হয়েছে। বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর টায়ার ফালসা-টায়ার সেতুর পুনর্বাসন কাজও চলছে।” লেবাননের লিতানি নদীর ওপর নির্মিত সেতুগুলোতে ইসরায়েলি হামলার ফলে নদীর দক্ষিণাঞ্চল কার্যত দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। নদীটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে প্রবাহিত।
শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়। এতে কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি আসে। এই সংঘাতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে লেবাননের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ থাকা সড়কগুলো পুনরায় চালুর কাজ করছে। শুক্রবার সকালে গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়েহ সেতুও চালু করা হয়। এতে দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত অসংখ্য মানুষ নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়ে সম্পদের খোঁজ নিতে পারছেন।
তবে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব অনিশ্চিত থাকায় অনেক বাসিন্দা এখনও ফিরে যেতে দ্বিধায় রয়েছেন। শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাইদনে এএফপি-র এক প্রতিবেদক দেখেছেন, দক্ষিণ থেকে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষরা সংক্ষিপ্ত সফর শেষে বৈরুতে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে রাজধানীমুখী যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়।
এর আগে ওই দিন হিজবুল্লাহর কর্মকর্তা মাহমুদ কামাতি সতর্ক করে বলেন, “ইসরায়েলি বিশ্বাসঘাতকতা যে কোনো সময় ঘটতে পারে। এটি একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি।” তিনি আরও বলেন, “একটু স্বস্তি নিন, কিছুটা বিশ্রাম নিন। তবে পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে ফেরার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়স্থল ত্যাগ করবেন না।”
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার জানায়, তারা একটি ‘ইয়েলো লাইন’ নির্ধারণ করেছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে যে সীমারেখা রয়েছে, তার মতোই এই লাইন নির্ধারণ করা হয়েছে।