উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গট্রিয়া গ্রামে এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত রতনের (২০) বাবা ওই গ্রামের বাসিন্দা হোসেন মিস্ত্রি। পেশাগত জীবনে রতন একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ব্রাজিল ২–১ গোলে পরাজিত হয়। ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত রতন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে সেই খেলা উপভোগ করেন। খেলা শেষ হওয়ার পর আজ ভোরের দিকে তিনি নিজের শোবার ঘরে ঘুমাতে যান।
সকাল গড়িয়ে গেলেও রতন দীর্ঘক্ষণ ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তাঁরা ডাকাডাকি করেও ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। একপর্যায়ে স্বজনরা জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান। তাঁরা দেখতে পান, ঘরের ভেতরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রতনের দেহ ঝুলছে। পরে দ্রুত দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রতনকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নিহতের বাবা হোসেন মিস্ত্রী জানান, তাঁর ছেলে ব্রাজিলের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিল। নরওয়ের কাছে প্রিয় দল হেরে যাওয়ার পর থেকেই রতনের মন ভীষণ খারাপ ছিল। এরপর সে নিজ ঘরে ঘুমাতে চলে যায়। সকালে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে খেলা হারার ক্ষোভেই সে আত্মহত্যা করেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
স্বজনদের সূত্রে আরও জানা যায়, বছরখানেক আগে রতন বিয়ে করেছিলেন। তাঁর শ্বশুরবাড়িটি বাড়ির পাশেই অবস্থিত। সম্প্রতি কন্যাসন্তান প্রসবের পর থেকে তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ফলে ঘটনার রাতে রতন তাঁর ঘরে একাই ঘুমিয়ে ছিলেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট দলকে পছন্দ করতেই পারেন। তবে দল হেরে যাওয়ার কারণেই আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করার জন্য লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।