উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এবার সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা পালনের জন্য সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষ্যে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, এবার সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৮শ’ ৫১টি পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে এবং মণ্ডপের সংখ্যা গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার বেশি। এর আগের বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২,৩৫১টি এবং তার আগের বছরগুলোতে ছিল প্রায় ২৮,০০০টি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে পুরো উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে এবং কোনো হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্গাপূজার সময় নজরদারি জোরদার করতে সরকারি সংস্থা এমন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবে, যা এর আগে নির্বাচনের সময় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার ব্যবহার করেছিল। মন্ত্রী বলেন, এই অ্যাপ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত জানিয়ে দিতে সহায়তা করবে এবং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে। এই পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং একই সাথে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পুলিশ পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মণ্ডপ আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখার এবং জেনারেটর বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যাকআপ হিসেবে রিচার্জেবল লাইট রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকেই বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সিলেট, মানিকগঞ্জ ও দিনাজপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের বিষয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত ঘটনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মন্ত্রী জানান, অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজ, সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হালনাগাদ করে থাকে।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাড্ডা ক্লিনিক ঘটনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া মাটিকাটা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় রাতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৯৯৯-এ কলের পর পুলিশের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।