উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
তেলের দাম ও বন্ডের সুদ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। একইসাথে দিনের শেষ দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগামী বছর পর্যন্ত সুদের হার বাড়িয়ে যেতে বাধ্য হতে পারে—এমন আশঙ্কায় গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড দ্রুত বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে আগের দিনের ইতিবাচক লেনদেনও এশিয়ার শেয়ারবাজারকে পতন থেকে রক্ষা করতে পারেনি। হংকংয়ের বাজারে ২ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে এবং টোকিও, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও জাকার্তার বাজারও কমেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম আবার বাড়ায় বাজারটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল, আর সিডনি ও তাইপের বাজারও বেড়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোলস বা কৃষি খাতের বাইরে কর্মসংস্থানের তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর রয়েছে। গত মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর পর এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তারা। এ সপ্তাহে ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক পূর্বাভাসের চেয়ে কম আসায় ২৮ সেপ্টেম্বর পরপর দ্বিতীয়বার সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
ফরেক্স ডট কমের ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন যে বন্ডবাজার এখন জুন ২০২৭-এর মধ্যে আরো চার দফা ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ধরে মূল্য নির্ধারণ করছে। তার মতে, বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন। তিনি আরো জানান, ব্লুমবার্গ কমোডিটি ইনডেক্স গত এক বছরে ৩৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ২০২২ সালের জ্বালানি সঙ্কটের পর গত ১২ মাসের হিসাবে এটি অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সঙ্কটের অবসান নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় বাজারে চাপ রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরো যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনা পাঠাচ্ছে এবং ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী আগামী মাসে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। ফেডের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্তব্যে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা ধরনের সতর্কতা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।