উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পদ্মা নদীর সদরপুর অংশে পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন থামছে না। চোখের সামনে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এছাড়া নদীপারে গড়ে ওঠা ২০০ বছরের প্রাচীন পিঁয়াজখালীর হাট, ঘাট, বাজার, আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার সদরপুর অংশে এর আগে কখনো এমন তীব্র স্রোত দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মুন্সীরচর এবং পার্শ্ববর্তী চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাইলের পর মাইল নদীপাড় একযোগে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা তাদের বসতি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও রোপিত ফসলসহ জমিগুলো ভাঙনের কবলে রয়েছে। বাধ্য হয়েই ভুক্তভোগী কৃষকেরা আধাপাকা বা কাঁচা ধান গোখাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, আমার জীবনে এত তীব্র ভাঙন দেখিনি, চোখের সামনে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেল। শয়তানখালী ঘাটের ইজারাদার মানিক ব্যাপারী জানান, যে হারে নদী ভাঙছে, তাতে আগামী বছর পিঁয়াজখালী হাট বলে আর কিছু থাকবে না। চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রোকন উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে এবং পদ্মা নদী শাসনের বিষয়টি প্রকল্প আকারে একনেকে তোলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করছেন এবং আশা করি খুব শীঘ্রই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে। পদ্মাতীরের সদরপুর অংশে এখনই টেকসই বাঁধ বা স্থায়ী সমাধান না মিললে এই বিশাল জনপদ অচিরেই গ্রাস হয়ে যাবে।