উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনসেবা নিশ্চিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল কর্তৃক Independent Performance Evaluation (IPE) প্রতিবেদনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রোববার বিটিআরসির মহাপরিচালক মো: মেহেদি-উল-সহিদ এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক রহিমা বেগম। অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল কর্তৃক Strengthening of State-owned Enterprises Governance শীর্ষক স্কিমের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাছাইকৃত ৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে ৩.১৭ স্কোরের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করে বিটিআরসি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত Independent Performance Evaluation Committee (IPEC) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই মূল্যায়ন পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর্পোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পরিচালন দক্ষতা এবং জনস্বার্থমূলক নীতি বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও বিটিআরসি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল কর্তৃক প্রতিবছর নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিটিআরসি ধারাবাহিকভাবে অধিক রাজস্ব আহরণ করে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমিশনের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩,৫৫৫ কোটি টাকা এবং এর বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৪,৪৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫,৮৮২ কোটি টাকা এবং এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৮১,৮৯১ কোটি টাকা।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে বিটিআরসি ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভয়েস ও ইন্টারনেট ট্যারিফ ব্যবস্থাপনার মতো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে এক দেশ এক রেট বাস্তবায়ন, গণশুনানি আয়োজন, কোয়ালিটি অব সার্ভিস মানদণ্ড যাচাই, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরিমাপ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম প্রতিরোধে অভিযান এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এই অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। স্বচ্ছ লাইসেন্সিং, গ্রাহক স্বার্থ মনিটরিং, সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ এবং নেটওয়ার্কের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল SOF এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা সম্প্রসারণ ও টেলিকম অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলছে। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ITU এবং এশিয়া প্যাসিফিক টেলিকিমিউনিটি APT এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যুক্ত থেকে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বিটিআরসির এই অর্জন আগামীতেও টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।