উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
উত্তরাধারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং, রাজস্বসহ আর্থিক খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে এই সংস্কার কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপিয়ে দেওয়া নয়; দেশের সমস্যাগুলো নিজেরাই চিহ্নিত করে নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন। এতে অর্থ উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল, নারী উদ্যোক্তা ও অবহেলিত অঞ্চলে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর আশা করছে সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন স্থিতিশীল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন থাকা প্রয়োজন।
বন্ধ কলকারখানা চালু এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিতুমীর বলেন, একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকেও সচল করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জিডিপি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া হিসাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে তিনটি বড় সমস্যা ছিল। এই সমস্যা কাটাতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২৩ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে।
অর্থায়ন নিয়েও কোনো বিভ্রান্তি নেই জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অর্থায়নের উৎস হবে বহুমুখী। শুধু বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে কনসেশনাল ও নন-কনসেশনাল ঋণের পাশাপাশি স্থানীয় বন্ড, সুকুক বন্ড এবং ওয়েজ আর্নার স্কিমের মতো বিভিন্ন উৎস কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, আমাদের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য আনা হবে। বাংলাদেশের প্রতি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা বাড়ছে এবং এডিবি ইতোমধ্যে গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের জন্য ৫০ কোটি ডলার ছাড় করেছে।