উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের বদলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতে, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার দুটি বিষয়কে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। গণভোটে জনগণের যে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, তা কেবল বিদ্যমান সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধনের জন্য নয়।
সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারা। বিশেষ কমিটিতে অংশ নিলে সরকারের এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া হবে—এমন যুক্তিতেই তাঁরা কমিটিতে প্রতিনিধি দেননি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সরকার যাতে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করতে না পারে, সে জন্য মাঠের আন্দোলন জোরদার করতে চায় জামায়াত।
এদিকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নতুন করে গণভোট আয়োজন প্রসঙ্গে আগের গণভোটের রায়ের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ৬ অক্টোবর তিনি বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নতুন করে গণভোট আয়োজনের কথা বলছে এবং এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার সংবিধান সংশোধন করতে পারলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মনে করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ২০ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। তিনি জানান, সরকার গণবিরোধী ও আইনবিরোধী পথে সংবিধান সংশোধনের দিকে যাচ্ছে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে লংমার্চসহ মাঠের আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।