উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে আমদানিনির্ভর ফলের উচ্চমূল্যের পেছনে অতিরিক্ত শুল্ক-কর ও সরবরাহ ব্যবস্থার বহুবিধ ব্যয় যুক্ত রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তাজা আপেল, আঙুর ও কমলার মতো ফলে মোট করভার বা টিটিআই সর্বোচ্চ ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বিভিন্ন ফলে সম্মিলিত শুল্ক-কর ৯৬ দশমিক ১০ থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়ায়। ফলে কাস্টমস নির্ধারিত মূল্য ১০০ টাকা হলে শুল্ক বাবদই আরও প্রায় ১২২ টাকা পর্যন্ত যোগ হয়।
করের হারের পাশাপাশি কাস্টমস মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আপত্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকৃত ক্রয়মূল্যের চেয়ে কাস্টমস মূল্যায়ন বেশি হওয়ায় করের ভিত্তি বাড়ে বলে তাঁদের অভিযোগ। এছাড়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফল আমদানিতে শতভাগ নগদ মার্জিন বাধ্যতামূলক করায় ব্যবসায়ীদের কার্যকরী মূলধনে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল। যদিও ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়ে সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিন নির্ধারণের সুযোগ দিয়েছে, তবুও বাজারে আগের চাপের প্রভাব রয়ে গেছে।
সম্প্রতি বাজারে মাল্টার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এই সরবরাহ সংকটের অন্যতম বড় উদাহরণ। চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মাল্টার দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকায় পৌঁছায়। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ১৫ থেকে ২০ কনটেইনার চাহিদার বিপরীতে কোনো কোনো সময় সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৬ থেকে ৭ কনটেইনারে। গত ৩ অক্টোবরের এক সরকারি বৈঠকেও ব্যবসায়ীরা জানান, কোনো কোনো সপ্তাহে চালানের পরিমাণ নেমে এসেছিল মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনারে, যা দৈনিক চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।
আমদানির পর বন্দর থেকে খালাসে বিলম্ব, সীমিত কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা এবং পরিবহন সমস্যার কারণে ফল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়ে। ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, আমদানিকারক থেকে শুরু করে পাইকার, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন মধ্যবর্তী স্তর পেরিয়ে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে পণ্যের দাম ৩০০ থেকে ৩৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সংরক্ষণ ও পরিবহন জটিলতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে ফলের বাজারদর অনেকটাই বেশি।
২০২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ফল আমদানি ২ লাখ ২১ হাজার টন থেকে বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার টনে দাঁড়ালেও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। সংকট সমাধানে ফলকে বিলাসপণ্য না ভেবে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, দ্রুত খালাসে গ্রিন চ্যানেল এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা আনার সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। সরকার ইতোমধ্যে এলসি সুবিধা সহজ করা এবং মাল্টার শুল্ক পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।