উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগরের বাহাদুর ঘোনা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি শর্টগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, গুলি ও চাঁদা সংগ্রহের তালিকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সীতাকুণ্ড থানার এসআই (নিঃ) মো. রফিকুল ইসলামসহ আলিনগর ক্যাম্পের টহল দল অংশ নেয় এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সেখানে অভিযান পরিচালনা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি অতিক্রম করে লক্ষ্যস্থল শনাক্ত করার পর সতর্কতা ও কৌশলের সঙ্গে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি শর্টগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, ৯টি সীসার বুলেট, ৬টি কার্তুজ বুলেট, একটি টেঁটা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং চাঁদা সংগ্রহের তালিকা-সংবলিত একটি খাতা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল (৩০), মো. মোরশেদ (৩৩), মো. বাবু (৩২) ও মো. সাব্বির (৩২), যারা চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকার বিভিন্ন সমাজে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাসেলের বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি অস্ত্র মামলা এবং মোরশেদের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে, তবে বাবু ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে আগের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাঁদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।