উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সবচেয়ে দরিদ্র অর্ধেক পরিবার কোনো ভর্তুকিই পাচ্ছে না এবং আরেকটি সমস্যা হলো ৫০ ইউনিট অতিক্রম করলেই পুরো ব্যবহারের ওপর উচ্চতর দর প্রযোজ্য হওয়ার মতো কাঠামো থাকলে সামান্য অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ফলে দরিদ্র পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় এবং এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক লাইফলাইন সীমা ৭৫ ইউনিটে উন্নীত করা, প্রতিটি ট্যারিফ স্তরে সংশ্লিষ্ট স্তরের ইউনিটের ওপর নির্ধারিত দর প্রয়োগ করা এবং মাসে ১৫০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি উদাহরণভিত্তিক সিমুলেশনে দেখা গেছে, এ ধরনের কাঠামোতে দারিদ্র্যের হার প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, বৈষম্য কিছুটা কমতে পারে এবং ভর্তুকি ব্যয় জিডিপির প্রায় ০.৪ শতাংশ কমতে পারে।
সার ভর্তুকি কৃষকদের আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের অভিঘাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে এবং বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে কৃষির অবদানও উল্লেখযোগ্য যেখানে ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কমার প্রায় ৬৯ শতাংশ কৃষি প্রবৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সার ভর্তুকির ব্যয় দ্রুত বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা বা জিডিপির ০.২ শতাংশ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে যা জিডিপির ০.৫ শতাংশের সমান। দেশের ব্যবহৃত সারের ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয় এবং বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী পরিমাণভিত্তিক সর্বজনীন ভর্তুকির কারণে সবচেয়ে বড় ২০ শতাংশ ভূমি মালিক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ পান বিপরীতে ক্ষুদ্রতম ৪০ শতাংশ ভূমি মালিক পান মাত্র ১৩ শতাংশ।
২০২৬ সালে সরকার ২৫টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৯০টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ১.৪ লাখ কোটি টাকা যা জিডিপির ২.১ শতাংশের সমান হলেও সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও কৃষি ভর্তুকি মিলিয়ে এ ব্যয়ের প্রায় ৪৩ শতাংশ চলে যায়। সরকারের নিজস্ব সংজ্ঞায় দরিদ্রবান্ধব হিসেবে বিবেচিত ৪৮টি কর্মসূচিতে বরাদ্দের অংশ মাত্র ৩৯ শতাংশ এবং ২০১০ সালে সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পাওয়া পরিবারের হার ২৪.৬ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে বেড়ে ৩৭.৬ শতাংশে দাঁড়ালেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের প্রায় অর্ধেক এখনো বঞ্চিত। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৭.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে জ্বালানি ও সার ভর্তুকি এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে কিন্তু দুর্বল লক্ষ্য নির্ধারণ ও সুবিধাভোগী নির্বাচনের সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যয়ের বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।