উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার সংযোগ নেই এমন এলাকায় প্রতিটি ভবনে মানসম্পন্ন সেপটিক ট্যাংক রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো ভবন এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ২০১০ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে বর্তমানে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা থাকলেও প্রথম সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের পর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
গুলশান লেকের পাশের বাড়ির মালিক খোরশেদ আলম বলেন, গুলশান, বারিধারা ও বনানী অভিজাত এলাকার বাড়িগুলোতে সেপটিক ট্যাংক না থাকলে তা কীভাবে অভিজাত এলাকা হয়। যারা সেফটি ট্যাংক করেছেন তারা কেন এই দুর্নামের ভাগিদার হবেন এবং যারা এখনও উদ্যোগ নেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এক আলোচনা সভায় বলেন, গুলশান-বারিধারার মতো বিশিষ্ট এলাকার লেকের পানি ঠিক না করতে পারলে সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব। এসব এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবনে নিয়ম অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক বা এসটিপি থাকার কথা থাকলেও তা নেই।
রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, গুলশান লেকসহ আশপাশের জলাশয় দূষণমুক্ত রাখতে প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও এসটিপি স্থাপন অপরিহার্য। রাজউক, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী এসব এলাকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ভবনে সেপটিক ট্যাংকের অস্তিত্ব নেই। গুলশান-বনানী এলাকার ৪ হাজার ৪০৯টি ভবন পরিদর্শন করে ১০টি বিশেষ টিম দেখেছে যে, ২ হাজার আর ২২২টি ভবনে সেপটিক ট্যাংক নেই এবং মাত্র ১ হাজার ৫৪০টিতে তা পাওয়া গেছে। এছাড়া ৯২ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ৪ হাজার ৬৮টি ভবনে শোষক কূপের কোনো ব্যবস্থাই নেই।
আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ লেকের মাত্র আড়াই কিলোমিটার অংশ থেকে ক্ষতিকর স্লাজ ও পলি সরানো হয়েছে। লেকের অন্তত সাতটি স্থানে সরাসরি সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইনের সংযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিশাল লেকের আশপাশে কয়েকশ কোটি টাকা খরচ করা হলেও লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের অভাবের কারণে জলাশয়ের দূষণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।