উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে অনশনে যাচ্ছেন বন্দর শ্রমিকরা। আগামীকাল সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে সরকারদলীয় চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এই কর্মসূচি পালন করবে। গত বৃহস্পতিবার এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিতে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই বন্দরে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতারা এবং চুক্তি বাতিলের দাবিতে রোববার বিকেল পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় সোমবার অনশন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর জানান যে রোববার বিকেল পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো ডাক আসেনি, তাই পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি চলবে। পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন যে সোমবার সকাল থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও এর অতিরিক্ত কনটেইনার ইয়ার্ড ইজারা দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। ৫ অক্টোবর বন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। ওই কর্মসূচি থেকে এনসিটির পাশাপাশি সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধেরও দাবি জানানো হয়। সবশেষে গত ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি হিসেবে সরকারের কাছে আলোচনার জন্য তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে সোমবার অনশনের ঘোষণা দেন।
এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন বন্দর শ্রমিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের দাবি, লাভজনক এই টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সম্ভব এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব দিলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাওয়া, কর্মসংস্থান ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তারা বন্দরের বিভিন্ন পদে শূন্যপদ পূরণ, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়ে আসছেন।