উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইয়েমেনে সৌদি আরবের নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে একের পর এক ভুল হিসাব। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে জোট ভাঙন, হুতিদের মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ট্রাম্পের অনিশ্চিত ভূমিকা রিয়াদকে আরও বিপapাকে ফেলেছে। কমবেশি সামরিক সাফল্য এলেও সৌদির বিভক্ত মিত্রবাহিনী ও রাজনৈতিক সমাধানের অভাবে এ সংঘাতের শেষ কোথায়, তা এখনো অনিশ্চিত।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, যে সামরিক বাহিনী মার্কিন অংশীদারত্বকে কেন্দ্র করে তাদের সমগ্র বিশ্বদর্শন গড়ে তুলেছে, সেই সৌদিরা এখন বুঝতে পারছে ট্রাম্প কতটা অপ্রত্যাশিত। নিজেদের শক্তিতে একা একা এ যুদ্ধগুলো লড়া কখনোই তাদের সামরিক কৌশল বা কাঠামোর মধ্যে ছিল না। ফলে সৌদি আরব এখন নিজেদের অরক্ষিত বোধ করছে এবং অন্যদিকে নজর দিচ্ছে।
গত মাসে সৌদি যুবরাজ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে দেখা করতে কায়রো যান এবং রিয়াদে ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানান। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সামরিক সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে এবং ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদিতে কাজ করছেন। এছাড়া সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীন সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে বাইরের দেশের সমর্থন এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের প্রাথমিক সাফল্য চলতি সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করতে পারবে না। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যেতে হলে সুশৃঙ্খল সংগঠন ও লজিস্টিকস সহায়তার প্রয়োজন। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার যদি মুক্ত করা অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারে, তবে এ ভূখণ্ডগত অর্জনের কোনো মূল্য থাকবে না।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর দেশকে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা এখন হুতিদের ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। গত কয়েক বছরের শান্ত অবস্থা ভেঙে চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ তীব্র রূপ নিয়েছে। সৌদি আরব ১১ বছর ধরে সামরিক শক্তি ও কূটনীতির মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্তের এ সংঘাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ভুল হিসাবের কারণে নিজেদের অরক্ষিত করে ফেলেছে।