উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বান্দরবানে বনাঞ্চল রক্ষার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বন বিভাগের পাল্পউড প্ল্যান্টেশন শাখার অধীন চেমি রেঞ্জের দায়িত্বে রয়েছেন। বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নে দিনের আলোতে মূল্যবান গাছ কাটা ও কাঠ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাঠ পাচার ও বন বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিবেদকের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানানো হয়। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বনাঞ্চল রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তা কেন সাংবাদিকের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরলেন।
স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় পাহাড়ি বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার তৎপরতা চলছে। এসব গাছের কাঠ পরে বিভিন্ন স’মিল ও ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। সরেজমিনে চেমি রেঞ্জ কার্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায়, অফিসটির অবকাঠামো জরাজীর্ণ এবং পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এমনকি রেঞ্জ কার্যালয় থেকে আনুমানিক ১০০ গজের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
চেমি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং রেঞ্জে মাত্র দুইজন স্টাফ রয়েছে। তিনি জানান, কাঠ পাচারের তথ্য পেলে অনেক সময় ভাড়া করা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থле যেতে হয় এবং সরকারি যানবাহন না থাকায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বন বিভাগের পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বান্দরবান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাঠ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা জানান।