উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশ্বের ৪০০ বন্দরের মধ্যে দক্ষতা সূচকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪তম এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী এখানে জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সমসাময়িক অনেক বন্দরে এ সময় ১৫ থেকে ২৪ ঘণ্টা এবং কনটেইনারের অবস্থানকাল সর্বোচ্চ আড়াই দিন হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে তা প্রায় ৯ দিন। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ সম্পন্ন হয় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে বা এনসিটিতে।
সরকার এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে এবং এর মাধ্যমে জাহাজের সময়সূচি সমন্বয়, পণ্য খালাস ও শুল্কায়নসহ দ্রুত কনটেইনার বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুক্তির আর্থিক শর্ত অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ড এককালীন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেবে এবং মোট রাজস্বের ৬৭ শতাংশ পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রথম ১০ বছরে টার্মিনাল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ এবং প্রতি বছর ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা প্রদানের শর্ত রয়েছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট মেয়াদে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ মালিকানা হস্তান্তর নয় জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন যে বন্দরের মালিকানা ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। এফবিসিসিআইর প্রশাসক ফজলুল হক মনে করেন ডিপি ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো গেলে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে এর ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং অর্থনীতি গতিশীল হবে। ব্যবসায়ীদের মতে বন্দর সক্ষমতা বাড়ানো হলে অতিরিক্ত ব্যয় সাশ্রয় হবে ও পণ্য সরবরাহে গতি আসবে। এছাড়া এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।