উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অবশেষে সমাপ্তি ঘটলো বিশ্ব ফুটবলের এক বর্ণাঢ্য ও সোনালী অধ্যায়ের। লাতিন আমেরিকার মাটিতে নিজের শেষ প্রতিযোগিতামূলক বা বিদায়ী ম্যাচে নামার কথা জানিয়ে আগেই আলোড়ন তুলেছিলেন লিওনেল মেসি। আর সেই বিদায়ী মঞ্চেও নিজের চিরচেনা জাদুকরি পারফরম্যান্সে ভক্তদের আরও একবার ভাসালেন আনন্দের জোয়ারে। চিরস্মরণীয় এই ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।
খেলার শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখে স্কালোনির শিষ্যরা। প্রতিপক্ষ দলের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে কিছুটা সময় লাগলেও, ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে ঠিকই নিজের ঝলক দেখান ফুটবলের জাদুকর। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত পাস ও দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে তছনছ করে দেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট ও অসাধারণ কিছু মুহূর্তের সুবাদেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থক। ম্যাচ শেষে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ। সতীর্থ থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রাও সম্মান জানান এই গ্রেটেস্ট অব অল টাইম (GOAT)-কে। ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মেসি তার দীর্ঘ বর্ণিল ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্ত, সতীর্থ এবং বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়েও বইছে আবেগের জোয়ার। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি অলিগলি, গ্রাম-গঞ্জে যেন এক উৎসবের আমেজ। প্রিয় তারকার বিদায়ী মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক ভক্তই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। রাজধানীর উত্তরায় এমনই এক আর্জেন্টাইন সমর্থক আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, ছোটবেলা থেকে মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছি। তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় নন, আমাদের আবেগের এক নাম। লাতিন আমেরিকার মাটিতে তার এই শেষ ম্যাচটি আমাদের চোখে জল এনে দিয়েছে, তবে তার জাদুকরি জয় আমাদের বুকটা গর্বে ভরে দিয়েছে।
আরেক তরুণ ভক্তের কথায়, মেসি মাঠ থেকে বিদায় নিলেও আমাদের মন থেকে কখনো যাবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা সমর্থকও আজ এক সুরে বলছে—ধন্যবাদ লিও, আমাদের ফুটবলপ্রেম শেখানোর জন্য। তিনি বিদায় নিলেও সবুজ ঘাসের বুকে রেখে যাওয়া তার অমর কীর্তি এবং ফুটবলের প্রতি অবদান যুগ যুগ ধরে ভক্তদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। তার এই জাদুকরী বিদায়ী জয় আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি সোনালী অধ্যায় হিসেবে খোদাই হয়ে রইল।