উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের জন্য জাল নথি, সাজানো ছবি ও মনগড়া প্রমাণ তৈরির অভিযোগে আবারও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। সমকামী পরিচয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে গত মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী সাজ্জাদ মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। পরে সাজ্জাদ মিয়া জামিনে মুক্তি পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অভিযানে মোবাইল ফোন, অলংকার ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠন আপনজন-এর সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে জাল প্রত্যয়নপত্র ও মনগড়া প্রমাণ তৈরি করত এবং এর আগেও বিবিসির অনুসন্ধানে কয়েকজন পরামর্শদাতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানিয়েছেন, আপনজন-এর সঙ্গে সম্পর্কিত সন্দেহজনক আশ্রয় আবেদনের তদন্ত থেকেই সাম্প্রতিক অভিযানের সূত্রপাত হয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, আবেদনকারীদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নিয়ে ভুয়া নথি দেওয়া হতো যাতে তাঁরা নিজ দেশে যৌন–সংশ্লিষ্টতার কারণে নির্যাতনের ঝুঁকিতে আছেন বলে দাবি করতে পারেন। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে কেউ অভিবাসন মর্যাদা অর্জন করে থাকলে তা বাতিল করা হতে পারে এবং জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনকে কারণ দেখিয়ে করা আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিক ৩২৪টি এবং বাংলাদেশি নাগরিক ১৪৮টি আবেদন করেছিলেন এবং ২০২৩ সালে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৫৭৮টি ও ১৭৫টিতে দাঁড়ায়। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে কোনোভাবেই বলা যায় না যে এসব আবেদন ভুয়া ছিল বা সবাই আশ্রয় পেয়েছেন, বরং কর্মকর্তাদের নথিতে অস্বাভাবিক মিল পাওয়ার পরই দীর্ঘ তদন্ত শুরু হয়।
চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির গোপন অনুসন্ধানেও আশ্রয়ব্যবস্থায় জাল নথি তৈরির অভিযোগ উঠে আসে যেখানে ছদ্মবেশী সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে পরামর্শদারেরা অর্থের বিনিময়ে সাজানো ছবি ও প্রত্যয়নপত্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই অনুসন্ধানে জাহিদ হাসান আকন্দ নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনজীবীর কার্যক্রমও আলোচনায় আসে যিনি সমকামী বা নাস্তিক পরিচয়ে আশ্রয় আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। আকন্দ ২০২২ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করলেও তাঁর আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি নেই এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি বা অসৎ আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।