উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী সরকারপ্রধান মার্গারেট থ্যাচার এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন। সংস্কার, শক্ত হাতে দেশ পরিচালনা এবং যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনায় তিনি পরিচিতি পান ‘লৌহমানবী’ নামে। আজ ১৩ অক্টোবর মার্গারেট থ্যাচারের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এই আয়োজন। পুরুষ নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে টানা ১১ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি ১৫০ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সরকারপ্রধান থাকার রেকর্ড গড়েন।
১৯২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ইংল্যান্ডের গ্রান্থামে জন্ম নেওয়া মার্গারেটের বাবা ও মা একটি মুদিদোকান চালাতেন এবং ছোটবেলায় তিনি কাউন্টারে বাবা-মাকে সাহায্য করতেন। অভাবের মধ্যে বড় হওয়া মার্গারেট অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রসায়নে পড়াশোনার পাশাপাশি স্টুডেন্ট কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে প্রথাগত রাজনীতিতে জড়ান। ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে নির্বাচনে হেরে গেলেও ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলে থেকে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৭৯ সালের ৩ মে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হিসেবে ৪ মে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মার্গারেট থ্যাচার। ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুদ্ধ এবং রক্ষণশীলদের ভেতর বিরোধিতা ও পোল ট্যাক্স নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ১৯৯০ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দল ও সরকারের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর অর্থনৈতিক নীতি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল।
রাজনীতি থেকে দূরে থাকাকালে তিনি ‘দ্য ডাউনিং স্ট্রিট ইয়ার্স’ এবং ‘দ্য পাথ টু পাওয়ার’ নামে দুটি স্মৃতিকথা লেখেন এবং ১৯৯২ সালে রাজকীয় ব্যারোনেস খেতাব পান। ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল লন্ডনে ৮৭ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালে তাঁকে সমাহিত করা হয়। কঠোর রাজনৈতিক মনোভাবের পাশাপাশি চুলের স্টাইলের জন্যও তাঁর খ্যাতি ছিল, এমনকি ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী তিনি ১৯৮৪ সালে ১১৮ বার চুল ছাঁটেছিলেন।