উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন ডাকাহার-কালিগ্রাম সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সড়কের নির্ধারিত প্রস্থ, নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান এবং কাজের তদারকি নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলার নলপুকুর থেকে কসবা পাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ২১০ মিটার সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তৃষ্ণা স্টুডিও। চলতি বছরের ১৬ মার্চ শুরু হওয়া কাজটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত প্রস্থ ৩ মিটার হলেও কাজ চলাকালে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি সড়কের কিছু অংশে প্রস্থ কম বলে মনে হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
গত ১০ অক্টোবর সরেজমিনে সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু উপকরণ দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্মাণকাজের জন্য আনা ইটবোঝাই দুটি গাড়ি ফেরত পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। কেন গাড়ি দুটি ফেরত পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গুলজার রহমান নিম্নমানের ইট আসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভালো ইটের সঙ্গে ভাটার মালিক খারাপ ইটও মিশিয়ে দেন। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মারুফ মুঠোফোনে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছি না। অভিযোগ সত্য নয়। আমরা ভালো কাজ করছি।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় বলেন, প্রতিটি কাজই আমাদের দপ্তর থেকে নিয়মিত তদারকি করা হয়। এ কাজের অনিয়মের অভিযোগ আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। তিনি আরও বলেন, ডাকাহার-কালিগ্রাম সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য কঠোর নজরদারি করা হবে।
সড়কটি নির্মাণ বন্ধ হোক, তা চান না স্থানীয়রা কারণ সামনে ধান কাটার মৌসুম এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা, তাঁদের দাবি নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, খোয়া ও অন্যান্য উপকরণের গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে। এখন দেখার বিষয়, অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপজেলা এলজিইডি কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।