উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে বড় ধরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার ৭০০-এর বেশি নিহত সেনার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন পর তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয় এবং সামরিক বাহিনী জানায় উদ্ধারকৃত ৭৩১ জনের দেহাবশেষ পৃথক ও গণকবর থেকে তোলা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনী কমিউনিস্টদের একটি বিদ্রোহ দমন করার সময় এসব যোদ্ধা নিহত হন এবং শহরের একটি গাছপালাঘেরা জনসাধারণের পার্ক থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সরকার একজন নিহত সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে এবং তিনি হলেন স্কোয়াড লিডার হুয়িন ভ্যান কুয়েন। ১৯৬৮ সালে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই সেনার দেহাবশেষ লে থি রিয়েং পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয় এবং জুলাই মাসে তার দেহাবশেষের সঙ্গে পাওয়া নাম লেখা একটি কাগজের টুকরো ও স্বজনদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ভিয়েতনামি সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয় এবং এ যুদ্ধে প্রথমে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জড়িয়ে পড়ে।
দেশজুড়ে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন সেনাদের ২ লাখ ৩০ হাজার কবর রয়েছে এবং আরও হাজার হাজার সেনার দেহাবশেষ দুর্গম জঙ্গলে কৃষিজমির নিচে কিংবা সাবেক যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৭ হাজার সেনার দেহাবশেষ উদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ফাম থি থান ট্রা একে বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন রাজনৈতিক দায়িত্ব ও হৃদয়ের গভীর থেকে আসা নির্দেশ বলে অভিহিত করেছেন। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া প্রতিবেশী দেশ লাওস ও কম্বোডিয়াসহ ভিয়েতনামের বিভিন্ন পুরোনো যুদ্ধক্ষেত্রে অনুসন্ধানে দেড় হাজারের বেশি লোক নিয়োজিত রয়েছেন এবং তাঁদের পাশাপাশি আরও হাজার হাজার মানুষ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত আছেন।
হো চি মিন সিটির রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের কারও হাতে ছিল সাদা ফুল, কেউ প্রার্থনা করছিলেন। ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো পোড়ামাটির কফিন বহনকারী বাসগুলো শোভাযাত্রা করে শহরের উপকণ্ঠে একটি শহীদ সেনা সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যায় এবং হো চি মিন সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বুধবারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান বাজছিল এবং এ সময় শহরের উপমেয়র নগুয়েন মান কুয়ং বলেন নিহত সহযোদ্ধাদের সন্ধান অব্যাহত রাখতে কোনো সুযোগ বা পদ্ধতিই আমরা উপেক্ষা করব না।