উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। এ হাটে পণ্য নয়, বিক্রি হয় ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের শ্রম, সময় ও দক্ষতা। কেউ চুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ আবার অপেক্ষায় রয়েছেন কাক্সিক্ষত বায়নার আশায়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কটিয়াদী পৌরসভার পুরানবাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মাঠসংলগ্ন স্থানে শুরু হয়েছে এ হাট এবং তা চলবে আগামীকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ঢাকি, ঢোলবাদক, সানাই ও বাঁশিশিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন এবং তাদের বাজনা শুনে পছন্দের দল নির্বাচন করছেন বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজকরা। কটিয়াদী পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকি দলগুলোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১ লাখ এবং সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছে। দলের সদস্যসংখ্যা, বাজনার মান, পরিবেশনার ধরন ও যাতায়াতের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে বায়নার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
হাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে এখানে তিন শতাধিক ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর সমাগম ঘটেছে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শতাধিক দল চুক্তিবদ্ধ হয়ে হাট ছেড়েছেন। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কটিয়াদীর চারিপাড়া গ্রামের সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় তার প্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। পূজার জন্য দক্ষ ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী নির্বাচন করতে তৎকালীন বিক্রমপুর পরগনা অঞ্চলে আমন্ত্রণ পাঠানোর মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী হাটের সূচনা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।