উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইউক্রেন মস্কোর দক্ষিণে রিয়াজান শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে বলে রাশিয়া বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইউক্রেনও ধীরে ধীরে রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার পরিধি বাড়িয়েছে এবং এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল শোধনাগারও রয়েছে। বিশেষ করে মস্কোর সঙ্গে আকস্মিক ডিজেল সরবরাহ চুক্তি করার পর ট্রাম্প ইউক্রেনের এসব হামলার সমালোচনা করেন এবং তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেল শোধনাগারে হামলার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে এবং তারা আর তা মেনে চলছেন না। গত সপ্তাহে ট্রাম্প একতরফাভাবে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মস্কো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে। বুধবার রাশিয়া আবারও বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানোর পর জেলেনস্কি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
জেলেনস্কি আরও জানান যে ইউক্রেন কয়েক দিনের জন্য হামলা বন্ধ রেখেছিল এবং ওই সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেন হামলার চেষ্টা করেছিল বলে মস্কো যে দাবি করেছে, তা কিয়েভ অস্বীকার করেছে। তবে হামলা বন্ধ রাখলেও ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে। স্টারলিংক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্টারশিল্ডের গতি বুধবার কমিয়ে দেওয়া হয় এবং জেলেনস্কি এটিকে ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে এবং তার অপ্রত্যাশিত মন্তব্য মস্কো ও কিয়েভকে বিস্মিত করেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তার সঙ্গে জেলেনস্কির প্রকাশ্য বিরোধের জেরে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা সহযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে— এমন আশঙ্কা আগেই দেখা দিয়েছিল। এরপর থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে এবং ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল অবস্থানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।