উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ছোট ছেলে বিক্রম বিশ্বাসের বয়স তখন মাত্র ২৯ দিন হওয়ায় গত বছর পূজামণ্ডপে ঘুরতে বের হওয়া সম্ভব হয়নি নয়নী সোমের। এবার স্বামী বিনয় বিশ্বাস, তিন বছর বয়সী বড় ছেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ও এক বছর বয়সী বিক্রমকে নিয়ে বনানী পূজামণ্ডপে এসেছেন তিনি। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে কথা হয় নয়নীর সঙ্গে এবং তিনি দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নয়নী সোমদের বাসা বাড্ডায় এবং তাঁর স্বামী বিনয় বিশ্বাস একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
সাভার থেকে পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে বনানী পূজামণ্ডপে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার বিকর্ণ কুমার চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী, মেয়ে, ছোট ভাই, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের দুই মেয়ে। সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা দর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজামণ্ডপ ঘোরার যাত্রা শুরু হয় এবং সেখান থেকে রামকৃষ্ণ মিশন হয়ে অন্যান্য মণ্ডপে যান বলে জানান তিনি। পেশাগত জীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করা বিকর্ণ কুমার চৌধুরী মনে করেন এবারের আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ গোছানো।
বনানী পূজামণ্ডপে এবার দেবী দর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সামনে উঠে এসেছে নদী, পানি ও জলকেন্দ্রিক জীবন-সংস্কৃতির গল্প। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায় জানান যে ২০০৮ সালে এই মণ্ডপে পূজা শুরু হয় এবং এ বছর এটি ১৯তম বছরে পদার্পণ করেছে। তিনি আরও বলেন যে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও ধীরে ধীরে নদ-নদী শুকিয়ে যাচ্ছে এবং নদী ও পানিকে ঘিরে যেসব জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেগুলো রক্ষার বার্তা দিতেই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজা ঘিরে বনানীসহ গুলশান বিভাগের প্রধান পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মামুনুর হক। তিনি জানান যে নিয়মিত মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। মণ্ডপের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ছাদে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন এবং পূজার দশমী পর্যন্ত এই নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।