উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট আদর্শিক জোটে একাকার হয়ে গেছে, এই অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা মো. আবদুর রহমান। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রটি তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন এবং শরীয়তপুর-১ আসনে দলটির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম ছিল।
পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান উল্লেখ করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতি আদর্শের বিস্তার ঘটেছে এবং দলের ভেতরে দ্বিচারিতা বাড়ছে। ঐতিহাসিক বিষয়ে মতামতের জন্য দলীয় সহকর্মীদের কাছ থেকে তাঁকে ‘মুজিববাদী’ ট্যাগের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও আদর্শিক প্রশ্নে এনসিপির বর্তমান অবস্থান জামায়াত-শিবিরের বয়ানের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে বলে জানান এই নেতা।
আবদুর রহমান অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণের পর তিনি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেওয়ায় তাঁকে ‘আওয়ামী লীগ’ বলে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।
এদিকে আবদুর রহমানের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার রাতে গণমাধ্যমকে জানান যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং দেশের বাইরে চলে গেছেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত উৎপাদনের কারণে তাঁকে পুনর্গঠিত কমিটিতে রাখা হচ্ছে না জেনেই তিনি ফেসবুকে এই পদত্যাগের নাটক করেছেন। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি একাকার হয়ে যাওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো ইস্যু নয়, বরং পদ না পাওয়ার হতাশা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।