বাংলাদেশ    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Copyright © 2026 • All Rights Reserved

সন্দেহজনক লেনদেন ও রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪ শতাংশ


মধুপুর নিউজ ২৪
ডেস্ক রিপোর্ট, ১১ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ এএম

সন্দেহজনক লেনদেন ও রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪ শতাংশ
বিএফআইইউ ২০২৪-২৫ অর্থবছর। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্টিংয়ের পরিমাণ এক বছরে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি, যার ফলে এক বছরে রিপোর্ট বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। আর্থিক অপরাধ দমনের এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে এবং মোট রিপোর্টের ৯৫ শতাংশই ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রিপোর্টের মধ্যে ব্যাংকের অংশ ছিল ৯১ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম বিএফআইইউকে জানাচ্ছে। তবে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের প্রবাহও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। দুর্নীতি ও ঘুষের অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকে বৈধ অর্থের সাথে মিশে গেলে তার প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের পর্যায়ে আসা ঘটনাগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষ সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিএফআইইউ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে ১৯৯টি আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ৯০টির সাথেই দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতিসংক্রান্ত ৪৬টি, করসংক্রান্ত অপরাধ ২৭টি এবং মুদ্রা চোরাচালানসংক্রান্ত ১১টি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি ও ঘুষ কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং এটি অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি যা সরকারি প্রকল্পের ব্যয় বাড়াতে পারে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ দুর্বল করতে পারে।

আইন প্রয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও বিএফআইইউর কাছে আর্থিক তথ্য চাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন সংস্থা এক হাজার ৩২৯টি আর্থিক তথ্যের অনুরোধ করেছে, যার মধ্যে এক হাজার ৩১৪টির তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির তথ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুদক ৮৪টি তথ্য চেয়েছিল, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে ৩৬৩টিতে দাঁড়িয়েছে এবং একই সময়ে সিআইডি ৪২৬টি তথ্যের অনুরোধ করেছে।

নগদ লেনদেনের পরিমাণ কমলেও আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমেনি বরং অপরাধের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় তিন কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে যার মোট মূল্য প্রায় ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বিএফআইইউ এই প্রবণতাকে নগদবিহীন ও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে যুক্ত করেছে। তবে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টো এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো মাধ্যমগুলো নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

মধুপুর নিউজ ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


সন্দেহজনক লেনদেন ও রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্টিংয়ের পরিমাণ এক বছরে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি, যার ফলে এক বছরে রিপোর্ট বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। আর্থিক অপরাধ দমনের এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে এবং মোট রিপোর্টের ৯৫ শতাংশই ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রিপোর্টের মধ্যে ব্যাংকের অংশ ছিল ৯১ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম বিএফআইইউকে জানাচ্ছে। তবে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের প্রবাহও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। দুর্নীতি ও ঘুষের অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকে বৈধ অর্থের সাথে মিশে গেলে তার প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের পর্যায়ে আসা ঘটনাগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষ সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিএফআইইউ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে ১৯৯টি আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ৯০টির সাথেই দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতিসংক্রান্ত ৪৬টি, করসংক্রান্ত অপরাধ ২৭টি এবং মুদ্রা চোরাচালানসংক্রান্ত ১১টি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি ও ঘুষ কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং এটি অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি যা সরকারি প্রকল্পের ব্যয় বাড়াতে পারে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ দুর্বল করতে পারে।

আইন প্রয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও বিএফআইইউর কাছে আর্থিক তথ্য চাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন সংস্থা এক হাজার ৩২৯টি আর্থিক তথ্যের অনুরোধ করেছে, যার মধ্যে এক হাজার ৩১৪টির তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির তথ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুদক ৮৪টি তথ্য চেয়েছিল, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে ৩৬৩টিতে দাঁড়িয়েছে এবং একই সময়ে সিআইডি ৪২৬টি তথ্যের অনুরোধ করেছে।

নগদ লেনদেনের পরিমাণ কমলেও আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমেনি বরং অপরাধের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় তিন কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে যার মোট মূল্য প্রায় ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বিএফআইইউ এই প্রবণতাকে নগদবিহীন ও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে যুক্ত করেছে। তবে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টো এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো মাধ্যমগুলো নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।


মধুপুর নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ হাবিবুর রহমান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সংবাদ শুনুন
সন্দেহজনক লেনদেন ও রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪ শতাংশ
0:00 / 0:00
1x