বাংলাদেশ    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Copyright © 2026 • All Rights Reserved

পুরান ঢাকায় সাড়ে ৩৫০ বছরের পুরোনো চম্পা বিবির মাজার


মধুপুর নিউজ ২৪
ডেস্ক রিপোর্ট, ১১ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পিএম

পুরান ঢাকায় সাড়ে ৩৫০ বছরের পুরোনো চম্পা বিবির মাজার
চম্পা বিবির সমাধি সৌধের ভেতরে সমাধির একাংশ

পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটের কাছে চকবাজারের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ একটি এলাকার নাম চম্পাতলী, যা চম্পা বিবির নামেই নামকরণ করা হয়েছে। ছোট কাটরা এলাকার হাকিম হাবিবুর রহমান লেনের পাশে সারি সারি দোকানের আড়ালে লুকিয়ে আছে সাড়ে তিন শ বছরের পুরোনো এই সমাধিসৌধ। সমাধিসৌধের ফটকের পাথরের ফলকে লেখা রয়েছে যে ছোট কাটরায় অবস্থিত চম্পা বিবির এই মাজারটি ১৬৭১ খ্রীষ্টাব্দে সায়েস্তা খান কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।

চম্পা বিবির সঠিক পরিচয় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং তাঁর কোনো ছবি বা নিশ্চিত বংশপরিচয় পাওয়া যায়নি। ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুনের বইয়ে তাঁকে নবাবের কন্যা, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বইয়ে স্ত্রী এবং হাকিম হাবিবুর রহমান ও রহমান আলী তায়েশের মতে তিনি নবাবের উপপত্নী হিসেবে উল্লেখ হয়েছেন। তবে নবাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, এই সমাধিসৌধ প্রমাণ করে যে সম্পর্কটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল।

মোগল সুবাদার নবাব শায়েস্তা খান ১৬৬৩ সালে বসবাসের জন্য ছোট কাটরা নামের তিনতলাবিশিষ্ট ইমারতটি নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে নবাবের কনিষ্ঠ পুত্র খোদাবন্দ খান ওরফে মির্জা বাঙালি ও চম্পা বিবি বসবাস করতেন এবং পরে তাঁদের বংশধরেরাও বহুকাল সেখানে বসবাস করেছেন। এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার এই সৌধটির বাইরের দিক থেকে প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৭.২৭ মিটার এবং ইটের তৈরি সৌধটির চার পাশের প্রতিটি দেয়ালের মাঝবরাবর একটি করে দরজা রয়েছে।

চম্পা বিবির সমাধির আশপাশের বাসাবাড়ির সবই এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং মাজারটি স্থানীয় সাতটি পরিবার মিলে সম্মিলিতভাবে তদারক করে থাকে। এশিয়াটিক সোসাইটির ‘ঢাকা কোষ’–এ বলা হয়েছে যে চম্পা বিবির সমাধিসৌধটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ নয়। সরকারিভাবে সংরক্ষিত না হলেও, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এই ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্যটি সুরক্ষিত রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

মধুপুর নিউজ ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


পুরান ঢাকায় সাড়ে ৩৫০ বছরের পুরোনো চম্পা বিবির মাজার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটের কাছে চকবাজারের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ একটি এলাকার নাম চম্পাতলী, যা চম্পা বিবির নামেই নামকরণ করা হয়েছে। ছোট কাটরা এলাকার হাকিম হাবিবুর রহমান লেনের পাশে সারি সারি দোকানের আড়ালে লুকিয়ে আছে সাড়ে তিন শ বছরের পুরোনো এই সমাধিসৌধ। সমাধিসৌধের ফটকের পাথরের ফলকে লেখা রয়েছে যে ছোট কাটরায় অবস্থিত চম্পা বিবির এই মাজারটি ১৬৭১ খ্রীষ্টাব্দে সায়েস্তা খান কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।

চম্পা বিবির সঠিক পরিচয় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং তাঁর কোনো ছবি বা নিশ্চিত বংশপরিচয় পাওয়া যায়নি। ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুনের বইয়ে তাঁকে নবাবের কন্যা, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বইয়ে স্ত্রী এবং হাকিম হাবিবুর রহমান ও রহমান আলী তায়েশের মতে তিনি নবাবের উপপত্নী হিসেবে উল্লেখ হয়েছেন। তবে নবাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, এই সমাধিসৌধ প্রমাণ করে যে সম্পর্কটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল।

মোগল সুবাদার নবাব শায়েস্তা খান ১৬৬৩ সালে বসবাসের জন্য ছোট কাটরা নামের তিনতলাবিশিষ্ট ইমারতটি নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে নবাবের কনিষ্ঠ পুত্র খোদাবন্দ খান ওরফে মির্জা বাঙালি ও চম্পা বিবি বসবাস করতেন এবং পরে তাঁদের বংশধরেরাও বহুকাল সেখানে বসবাস করেছেন। এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার এই সৌধটির বাইরের দিক থেকে প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৭.২৭ মিটার এবং ইটের তৈরি সৌধটির চার পাশের প্রতিটি দেয়ালের মাঝবরাবর একটি করে দরজা রয়েছে।

চম্পা বিবির সমাধির আশপাশের বাসাবাড়ির সবই এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং মাজারটি স্থানীয় সাতটি পরিবার মিলে সম্মিলিতভাবে তদারক করে থাকে। এশিয়াটিক সোসাইটির ‘ঢাকা কোষ’–এ বলা হয়েছে যে চম্পা বিবির সমাধিসৌধটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ নয়। সরকারিভাবে সংরক্ষিত না হলেও, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এই ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্যটি সুরক্ষিত রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে।


মধুপুর নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ হাবিবুর রহমান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সংবাদ শুনুন
পুরান ঢাকায় সাড়ে ৩৫০ বছরের পুরোনো চম্পা বিবির মাজার
0:00 / 0:00
1x