বাংলাদেশ    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Copyright © 2026 • All Rights Reserved

ময়মনসিংহের লোকগানের ঐতিহ্য ও সংরক্ষণ সংকট


মধুপুর নিউজ ২৪
ডেস্ক রিপোর্ট, ১১ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ এএম

ময়মনসিংহের লোকগানের ঐতিহ্য ও সংরক্ষণ সংকট

সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার ও লোকশিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী লোকগান ও পালাগানের চর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রবীণ শিল্পীর কাছে সংরক্ষিত গান ও কাহিনির লিখিত রূপ কিংবা প্রামাণ্য রেকর্ডিং না থাকায় এসব ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোকগান সংগ্রহ, পালার বাণী ও সুরের রেকর্ড সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং শিল্পীদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও পরিবেশনার আয়োজন বাড়িয়ে এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করতে হবে।

বিশ শতকের গোড়ার দিকে স্থানীয় সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত বিভিন্ন পালা সংগ্রহ করেন এবং সাহিত্যগবেষক দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মহুয়া ও মলুয়ার প্রেম, বিরহ, আত্মত্যাগ এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকর্ম এবং দেওয়ানা মদিনা, কমলা, কাজলরেখার মতো পালাগুলো লোকসাহিত্যের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বয়াতি ও গায়েনদের পরিবেশনানির্ভর এসব পালাগান গ্রামীণ মেলা ও উৎসবে মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকসংগীতের আরেকটি ধারা হলো বাউলগান, যা আত্মঅনুসন্ধান ও সাধনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং এর সঙ্গে উকিল মুন্সি, চান খাঁ, জালাল খাঁ ও রশিদ উদ্দিনের নাম জড়িত। অন্যদিকে কবিগানে তাৎক্ষণিক কাব্যরচনা, যুক্তিতর্ক ও সুরের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক অসংগতি ও ধর্মীয় আখ্যান তুলে ধরা হয়। এসব গানে আঞ্চলিক ভাষা, নদী, হাওর, বর্ষা ও গ্রামীণ প্রকৃতির অনন্য ব্যবহার লোকসাহিত্যকে স্বতন্ত্র আবেদন দিয়েছে। যথাযথ গবেষণা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ময়মনসিংহের এই লোকঐতিহ্য রক্ষা করা গেলে তা সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

মধুপুর নিউজ ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ময়মনসিংহের লোকগানের ঐতিহ্য ও সংরক্ষণ সংকট

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার ও লোকশিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী লোকগান ও পালাগানের চর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রবীণ শিল্পীর কাছে সংরক্ষিত গান ও কাহিনির লিখিত রূপ কিংবা প্রামাণ্য রেকর্ডিং না থাকায় এসব ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোকগান সংগ্রহ, পালার বাণী ও সুরের রেকর্ড সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং শিল্পীদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও পরিবেশনার আয়োজন বাড়িয়ে এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করতে হবে।

বিশ শতকের গোড়ার দিকে স্থানীয় সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত বিভিন্ন পালা সংগ্রহ করেন এবং সাহিত্যগবেষক দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মহুয়া ও মলুয়ার প্রেম, বিরহ, আত্মত্যাগ এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকর্ম এবং দেওয়ানা মদিনা, কমলা, কাজলরেখার মতো পালাগুলো লোকসাহিত্যের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বয়াতি ও গায়েনদের পরিবেশনানির্ভর এসব পালাগান গ্রামীণ মেলা ও উৎসবে মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকসংগীতের আরেকটি ধারা হলো বাউলগান, যা আত্মঅনুসন্ধান ও সাধনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং এর সঙ্গে উকিল মুন্সি, চান খাঁ, জালাল খাঁ ও রশিদ উদ্দিনের নাম জড়িত। অন্যদিকে কবিগানে তাৎক্ষণিক কাব্যরচনা, যুক্তিতর্ক ও সুরের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক অসংগতি ও ধর্মীয় আখ্যান তুলে ধরা হয়। এসব গানে আঞ্চলিক ভাষা, নদী, হাওর, বর্ষা ও গ্রামীণ প্রকৃতির অনন্য ব্যবহার লোকসাহিত্যকে স্বতন্ত্র আবেদন দিয়েছে। যথাযথ গবেষণা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ময়মনসিংহের এই লোকঐতিহ্য রক্ষা করা গেলে তা সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।


মধুপুর নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ হাবিবুর রহমান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সংবাদ শুনুন
ময়মনসিংহের লোকগানের ঐতিহ্য ও সংরক্ষণ সংকট
0:00 / 0:00
1x