বাংলাদেশ    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Copyright © 2026 • All Rights Reserved

দলীয় বহিষ্কার ও এমপি পদ: অতীতে কার কী পরিণতি হয়েছিল


মধুপুর নিউজ ২৪
ডেস্ক রিপোর্ট, ১১ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ পিএম

দলীয় বহিষ্কার ও এমপি পদ: অতীতে কার কী পরিণতি হয়েছিল
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও গাজী নজরুল ইসলামকোলাজ: প্রথম আলো

কোনো রাজনৈতিক দল তাদের কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। সংবিধানে এ সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধান না থাকায় এ বিষয়ে স্পিকার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হতে পারে। ফলে অতীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও কারও সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার কোনো উদাহরণ নেই।

সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী টানা ৯০ কার্যদিবস অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি, শপথ নিতে ব্যর্থতা, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড, দেউলিয়া বা বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের মতো কারণে আসন শূন্য হতে পারে। এ ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের দল থেকে পদত্যাগ বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হয়।

চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিতর্কিত দুই সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে দুই রকম পদক্ষেপ দেখা গেছে। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে থেকেও সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন। অন্যদিকে ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

অতীতেও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় গণফোরাম থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং বিএনপি থেকে জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কার করা হলেও তাঁরা পদে বহাল ছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে অসত্য তথ্যের অভিযোগে জাতীয় পার্টির এইচ এম গোলাম রেজা এবং ২০০৫ সালে দলীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আবু হেনা স্পিকারের সিদ্ধান্তে পদে বহাল ছিলেন।

বিতর্কের মুখে মন্ত্রিত্ব হারালেও সংসদ সদস্য পদ টিকে থাকার নজির তৈরি করেছিলেন মুরাদ হাসান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে একটি অডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ এবং দলীয় পদ হারালেও মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন।

অন্যদিকে ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় নয় মাস কারাগারে থাকার পর নির্বাচন কমিশনে শুনানির মুখে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন।

আইনি কারণে আসন শূন্য হওয়ার ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলের ক্ষেত্রে। কুয়েতের আদালতে মানব পাচার ও ঘুষ লেনদেনের মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মধুপুরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পানির প্রকল্প উদ্বোধন

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

মাঠে ব্রাজিল হারল, ঘরে হারল রতনের প্রাণ!

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

দিল্লির আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ অদৃশ্য

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

মধুপুরে ৩১টি এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে সৌদি সরকারের খেজুর বিতরণ

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, দফায় দফায় সরানো হচ্ছে

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীতে গ্যারেজে যৌথ অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসিত ওসি মনোয়ার

মধুপুর নিউজ ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


দলীয় বহিষ্কার ও এমপি পদ: অতীতে কার কী পরিণতি হয়েছিল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কোনো রাজনৈতিক দল তাদের কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। সংবিধানে এ সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধান না থাকায় এ বিষয়ে স্পিকার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হতে পারে। ফলে অতীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও কারও সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার কোনো উদাহরণ নেই।

সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী টানা ৯০ কার্যদিবস অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি, শপথ নিতে ব্যর্থতা, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড, দেউলিয়া বা বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের মতো কারণে আসন শূন্য হতে পারে। এ ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের দল থেকে পদত্যাগ বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হয়।

চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিতর্কিত দুই সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে দুই রকম পদক্ষেপ দেখা গেছে। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে থেকেও সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন। অন্যদিকে ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

অতীতেও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় গণফোরাম থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং বিএনপি থেকে জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কার করা হলেও তাঁরা পদে বহাল ছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে অসত্য তথ্যের অভিযোগে জাতীয় পার্টির এইচ এম গোলাম রেজা এবং ২০০৫ সালে দলীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আবু হেনা স্পিকারের সিদ্ধান্তে পদে বহাল ছিলেন।

বিতর্কের মুখে মন্ত্রিত্ব হারালেও সংসদ সদস্য পদ টিকে থাকার নজির তৈরি করেছিলেন মুরাদ হাসান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে একটি অডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ এবং দলীয় পদ হারালেও মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন।

অন্যদিকে ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় নয় মাস কারাগারে থাকার পর নির্বাচন কমিশনে শুনানির মুখে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন।

আইনি কারণে আসন শূন্য হওয়ার ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলের ক্ষেত্রে। কুয়েতের আদালতে মানব পাচার ও ঘুষ লেনদেনের মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।


মধুপুর নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ হাবিবুর রহমান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সংবাদ শুনুন
দলীয় বহিষ্কার ও এমপি পদ: অতীতে কার কী পরিণতি হয়েছিল
0:00 / 0:00
1x